মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

সার ডিলার

১।চন মিয়া সাবডিলার

পিতা: সফর উদ্দিন

গ্রাম: রঘুনাথপুর

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি কৃষি। কিন্তু এই কৃষি আজ বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। একদিকে জনসংখ্যা বাড়ছে , অন্যদিকে আবাদি জমি কমছে প্রতিনিয়ত। ১৯৭০-৭১ সালে মাথা পিছু জমি ছিল ০.১২ হেক্টর, সেখানে বর্তমানে নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ০.০৬ হেক্টরে। এ অবস্থায় ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে ক্ষয়িষ্ঞ এ জমি থেকেই। বর্তমান এ চ্যালেঞ্জ থেকেই আমাদের দেশের কৃষকরা এক ফসলি জমি থেকে দুই বা ততোধিক ফসল ঘরে তুলতে জমিতে ব্যাপক হারে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে দিয়ে যাচ্ছেন অনুমান নির্ভর রাসয়নিক সার। অন্যদিকে কতিপয় অত্যাবশ্যকীয় সার আদৌ ব্যবহার করছেন না। এতে মাটির র্উবরা শক্তি যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি অপচয় হচেছ মূল্যবান রাসয়নিক সার। মাটির অনুজীবের কার্যকারীতা হারাচ্ছে। অতিরিক্ত রাসয়নিক সার মাটির নিচে চুয়ে, নদী-নালায় মিশে যাচ্ছে। আবার গ্যাস হয়ে বায়ুমন্ডলে মিশে পরিবেশ দূষিত করছে।মাটি হতে গাছ তার বৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য ১৭টি অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদানের মধ্যে ১৪টি উপাদান পেয়ে থাকে। কিন্তু অসমহারে ও যথেচ্ছভাবে সার ব্যবহার ও নিবিড় চাষাবাদের কারণে মাটিতে গাছের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪ টি পুষ্টি উপাদানের উপস্থিতি আশংকাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে । এক গবেষণায় দেখা গেছে, এক হেক্টর জমি থেকে উফশী ধান (ধানের ফলন ৬ টন/হেক্টর) প্রতি বছরে ১০৮ কেজি নাইট্রোজেন, ১৮ কেজি ফসফরাস, ১০২ কেজি পটাসিয়াম এবং ১১ কেজি সালফার গ্রহণ করে থাকে। এভাবে বিভিন্ন ফসল চাষে জমি থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমান পুষ্টি উপাদান অপসারিত হয়।
এভাবে অপরিকল্পিত ভূমি ব্যবহারে মাটির স্বাস্থ্য তথা মাটির উর্বরতা ক্রমশঃই কমে যাচ্ছে। ফলশ্র“তিতে ফসলের আশানুরূপ ফলন হচ্ছেনা। মাটিতে পরিমিত পরিমানে সার প্রয়োগ করা হলে এবং ফসলের উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় মাটির উর্বরতা ও উৎপাদনক্ষমতা বাড়ে । এতে কাংখিত পরিমানের ফলন পাওয়া যায়। কিন্তু মাটিতে কি পরিমাণ পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি রয়েছে তা জানা না থাকলে ফসলের চাহিদা অনুযায়ী পরিমাণমত সার প্র্রয়োগ করা যায় না। এজন্য সার প্রয়োগের পূর্বে অবশ্যই ফসলি জমির মাটি পরীক্ষা করে পরিমিত মাত্রায় সুষম সার দিতে হবে। সুষম সার হলো, যে সার যতটুকু প্রয়োজন সে সার ততটুকু দিতে হবে। সেক্ষেত্রে রাসয়নিক ও জৈব সারের সমন্বয় করে সারের মাত্রা ঠিক করা হয়। এতে যেমন মাটির উর্বরতা রক্ষা করা সম্ভব হয় তেমনি সারের অপচয় রোধ করাও সম্ভব হয়। বলা বাহুল্য যে, গত ২০০৮-০৯ সালে দেশে মোট ৩০ লক্ষ ৫ হাজার মেট্রিক টন রাসয়নিক সার ব্যবহার হয়। এর মধ্যে শুধুমাত্র ইউরিয়া সার ব্যবহার হয় ২৪ লক্ষ মেট্রিক টন। অথচ ইউরিয়া সারের মাত্র একতৃতীয়াংশ ফসলের কাজে আসে। এই বিপুল পরিমান সারে, সরকারের ভর্তূকি গুনতে হয়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। অথচ মাটি পরীক্ষা করে পরিমিত মাত্রায় সার প্রয়োগ করলে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার ভর্তূকি বাচাঁনো সম্ভব


Share with :

Facebook Twitter